জেলায় ঘুরে ঘুরে এবার করোনার পরীক্ষা করা হবে মোবাইল টেস্টিং ভ্যানের মাধ্যমে বিশ্বের ত্রাস করোনা ভাইরাস এখন রীতিমতো ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে এদেশেI তার সংক্রমণের হাত থেকে রেহাই পায়নি রাজ্যের বহু মানুষIসেই মরণব্যাধির মোকাবিলায় সব কাজ ফেলে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার কোমর বেঁধে নেমেছে যাতে করোনা সংক্রমণের হাত থেকে নাগরিকদের রক্ষা করা যায়Iসেই জন্যই প্রতিনিয়ত নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে যাতে আরোও বেশি চিকিৎসা ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়I
সেসবের মধ্যেও মহানগর কলকাতা ছাড়া হাওড়া ও উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলায় একেরপর এক করোনা রুগী মেলায় উদ্বেগ বাড়িয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তাদের Iঅবস্থানগত ভাবে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলা আবার এই জেলা গুলির একেবারে কাছাকাছি হওয়ায় আগেভাগেই সে বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলা প্রশাসনIএবার করোনা রোগীর সন্ধান ও তাদেরকে চিহ্নত করার কাজের গতি আনতে বিশেষ বন্দোবস্ত করেছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলা প্রশাসনIইতিমধ্যেই জেলায় পাঁচটি মহাকুমার জন্য পাঁচটি বিশেষ ভাবে তৈরি করোনা টেস্টিং ভ্যান আনানো হয়েছেIযার মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে গিয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের করোনার পরীক্ষার জন্য সোয়াপ টেস্ট করা যায়Iদক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায় আলিপুর,ডায়মন্ড হারবার,বারুইপুর,ক্যানিং ও কাকদ্বীপ মহকুমা এলাকায় ইতিমধ্যেই মিলেছে করোনা রুগীIসেই জন্যই বিস্তীর্ণ এই জেলার জুড়ে ৮২ জনের একটি বিশেষ দল গড়া হয়েছে Iপ্রতিদিনই সেই প্রতিনিধিরা এলাকায় এলাকায় গিয়ে করোনার জন্যই প্রায় একশো জনের নমুনা সংগ্রহ করার কাজ চালাচ্ছেIএপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে জেলা জুড়ে ৩,১২০ জন মানুষের সোয়াপ পরীক্ষা করা হয়েছে I
জেলায় সংক্রমণ ছড়াতে না পারে তাই সেই কাজের গতি আনতেই এবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার জেলা প্রশাসন বিশেষ পাঁচটি এই মোবাইল টেস্টিং ভ্যানের ব্যবস্থা করেছে যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মহুকুমা এলাকার রেড জোন অথবা কন্টাইন্মেন্ট এলাকায় গিয়ে যাদের করোনার উপসর্গ রয়েছে সেই সব সাধারণ মানুষের থেকে নমুনা সংগ্রহ ও দ্রুততার সঙ্গে সংগৃহীত নমুনা এসএসকেএম হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠানো যায় এবং পরীক্ষা শেষে করোনা আক্রান্তদের সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে ভর্তি করা যায় Iআর এই পুরো কর্মযোগ্যটাই চলছে জেলাশাসক পি উলগানাথনের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসনের দক্ষ আধিকারিকরা Iদক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা প্রশাসন এই মোবাইল টেস্টিং ভ্যান গুলিকে শুরুতেই জেলার মধ্যে থাকা মগরাহাট ২ ব্লক ,বিষ্ণুপুর ২ ব্লক , সোনারপুর ব্লক,ক্যানিং ১ ব্লক ও মহেশতলা এলাকায় নমুনা সংগ্রহের জন্য পাঠানো হবেI
সেই ভ্যান গুলিতে থাকবে বিশেষ প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরাIএর মাধ্যমে প্রতিদিনই এক হাজার মানুষের নমুনা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছেIএর আগে কোন এলাকায় করোনা পজিটিভ দেখা দিলে সেখানে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরে তা এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠাতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতIযাতে অল্প সময়ের মধ্যে বেশি সংখ্যক মানুষের নমুনা সংগ্রহ করে দ্রুত পরীক্ষাগারে পাঠানো যায় সেই জন্যেই প্রথম পর্যায়ে আলিপুর মহকুমাধীন এম আর বাঙ্গুর হাসপাতাল ও ডায়মন্ড হারবার মহকুমাধীন ডায়মন্ড হারবার হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে মোট দু'টি বিশেষভাবে তৈরি করোনা টেস্টিং মোবাইল ভ্যান পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে যা দু'এক দিনের মধ্যেই নমুনা পরীক্ষার কাজ শুরু করবে Iক্রমপর্যায়ে বাকি তিনটি বিশেষ ভ্যান পাঠিয়ে দেওয়া হবে বারুইপুর,ক্যানিং ও কাকদ্বীপ মহাকুমায়I
এছাড়া জেলার মধ্যে থাকা ২৯ টি ব্লক এলাকায় বাইরে থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের পরীক্ষা ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করার জন্য বিশেষভাবে বসানো হচ্ছে কিয়স্কIশুরুতেই এম আর বাঙ্গুর ও ভাঙড় ১ নম্বর ব্লকের নলমুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে তার মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছেI

0 Comments