করোনা সংক্রমণ রুখতে রাজ‍্য জুড়ে টানা 48 ঘণ্টা লকডাউনে ঘরবন্দি জনজীবন। প্রবল বৃষ্টির  মধ্যেই বৃহস্পতিবার ভোর থেকে পুলিশ পথে নামে।  প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ব্যারিকেড করে শুরু হয় নজরদারি। রাস্তায় বেরোনো গাড়ি বাইকে তল্লাশি চালানো হয়। খতিয়ে দেখা হয় কাগজপত্র।


উপযুক্ত কারণ দেখাতে না পারলে কড়া ব্যবস্থা নিতে দেখা গিয়েছে পুলিশকে। অনেককেই বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। আটক করা হয় গাড়ি-বাইক। তবে প্রায় প্রতিটি জেলাতে লকডাউন অমান্য করার প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। বেড়েছে সচেতনতা। আগের সাপ্তাহিক সম্পূর্ণ লকডাউন এর মতই এদিনও দক্ষিণবঙ্গের 4 জেলা উত্তর ও দক্ষিণ 24 পরগনা, হাওড়া এবং হুগলিতে বাড়তি নজরদারি চালায় পুলিশ। এই 4 জেলার গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত রাস্তায় এমনকি গলি এবং ছোট রাস্তা গুলোতেও পুলিশের কড়া নজরদারি চলছে।



রাস্তায় বেরোলেই উপযুক্ত কারণ দেখাতে হচ্ছে।কারণ দেখাতে না পারলে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আইনানুগ কড়া ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। হাওড়া স্টেশন চত্বর, হাওড়া ব্রিজ, গোলাবাড়ি, কাজীপাড়া, শিবপুর, হাওড়া গ্রামীণের উলুবেড়িয়া, ডোমজুড়, উত্তর 24 পরগনার বারাসত, ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল, মধ্যমগ্রাম, দক্ষিণ 24 পরগনার সোনারপুর, কুলতলি, জয়নগর, হুগলির শ্রীরামপুর, চন্দননগর সর্বত্র কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।



দোকান- বাজার  খোলা থাকলেই সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দিচ্ছে পুলিশ। তবে দিন সকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় রাস্তায় একেবারেই মানুষের আনাগোনা দেখা যায়নি। এই চার জেলার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিতে যেমন পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বীরভূম, বর্ধমান সর্বত্র পুলিশের কড়াকড়ি চোখে পড়েছে। লকডাউন অমান্য করার জন্য বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।



 দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর- সর্বত্র সতর্ক রয়েছে পুলিশ। লকডাউন অমান্য হলেই  ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে দক্ষিণবঙ্গের মতোই উত্তরের জেলা গুলিতেও মানুষের সচেতনতা বাড়ায় লকডাউন ভাঙ্গার প্রবণতা অনেকটাই কমেছে।