বর্ধমান উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক নিশীথ মালিককে গালিগালাজ ও খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে দেওয়ানদিঘি থানার পুলিস। ধৃতের নাম সামসুদ্দিন মালিক ওরফে হাবিব। হুগলির গুড়াপ থানার ঘোষলা মুসলিমপাড়ায় তার বাড়ি। মঙ্গলবার ভোরে দেওয়ানদিঘি থানার কুড়মুন বাসস্ট্যান্ড থেকে পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ বিধায়কের মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোনে তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁকে বলা হয়। তা না করলে তাঁকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। পুলিস তাকে কোনও ভাবেই ধরতে পারবে না বলে ফোনে জানানো হয়। একইভাবে মেমারির বিধায়ক নাির্গস বেগমের কাছেও হুমকি ফোন যায়।
ফোনের সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিস। কল ডিটেলস্ বিশ্লেষণ করে ফোনের মালিক শক্তিগড় থানার নান্দুড়ের বাসিন্দা অভিজিৎ দাসের হদিশ পায় পুলিস। তাকে থানায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস। জিজ্ঞাসাবাদে অভিজিৎ হুমকি ফোনের কথা অস্বীকার করে। তাঁকে বর্ধমান থানার নিবেদিতাপল্লির শুভজিৎ রায়চৌধুরি নানাভাবে ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছে বলে অভিজিৎ পুলিসকে জানায়।
দিন দু’য়েক আগে শুভজিৎকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ বর্ধমান থানার পুলিস গ্রেপ্তার করে। শুভজিৎ ও সামসুদ্দিন শহরের একটি হোটেলে রুমভাড়া নিয়ে ছিল। শুভজিৎ-এর গ্রেপ্তার হওয়ার খবর জানতে পেরে হোটেল ছাড়ে সামসুদ্দিন। শুভজিৎকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হুমকি ফোনে সামসুদ্দিনের জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে পারে পুলিস।
সামসুদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস জেনেছে, কলিং অ্যাপের সাহায্যে জালিয়াতি করে অভিজিৎ-এর নম্বর ব্যবহার করে তারা বিধায়ককে হুমকি দেয়। ধৃতরা বিভিন্ন জনের কাছ থেকে হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করেছে বলে তদন্তে নেমে জেনেছে পুলিস।
শক্তিগড় থানায় কলিং অ্যাপের মাধ্যমে তাঁর মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে হুমকি দিয়ে ফোন করার বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিজিৎ। তার ভিত্তিতে কেস রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে শক্তিগড় থানাও। এর সঙ্গে আরও দু’জন জড়িত রয়েছে বলে পুলিসের অনুমান।

0 Comments