খাওয়ার পরপরই যে ৮টি কাজে তৈরি হয় স্বাস্থ্য ঝুঁকি!


প্রতিদিন দুপুরে ডায়েট মেনে খাচ্ছেন, রাতেও নিয়ম মেনেই খাওয়াদাওয়া করছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও শরীর যেন কিছুতেই ভাল যাচ্ছে না। এ অবস্থায় কী করবেন তাও বুঝতে পারছেন না। এমন যদি হয়, তাহলে দুপুরে, রাতে কিংবা সকালে যে কোন সময় ভরপেট খাওয়াদাওয়ার পর বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলুন। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে যাওয়ার পাশাপাশি আপনার সুস্থতাও নিশ্চিত হবে।
১. ওষুধ খাওয়া: খাওয়ার পরপরই ওষুধ খেয়ে নেবেন না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, খাবার খাওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে বা পরে ওষুধ খান। এ ছাড়া কিছু ওষুধ রয়েছে, যেগুলো খালি পেটে খেতে হয়। এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২. জল পান : খাওয়ার পর পরই জল পান হজমকে ধীর গতির করে তোলে। পাচক রসের সাথে জল মিশ্রিত হয়ে এমন হয়। এতে হজম প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে যায়। খাওয়ার একদম আগে আগে জল পান করলেও এমন হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। তাই খাবার খাওয়ার আগে ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন পড়লে আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা আগেই তা খেয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। মূলত খাওয়ার পর পরই জল পান করলে খাবারের গুণগত মানের ওপর প্রভাব পড়ে এবং হজমে সমস্যা তৈরি হয়। তাহলে কখন জল পান করবেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট  পর জল পান করুন। সেই সময় তৃপ্তি সহকারে জল পান করুন।
৩. চা/কফি খাওয়াঃ দুপুরে কিংবা রাতে খাওয়ার পরপর অনেকেরই এক কাপ চা না হলে চলে না। যাদের এই অভ্যাস আছে তাঁরা নিজের অজান্তেই নিজের শরীরের ক্ষতি করছেন। চা অ্যান্টি অক্সিডেন্টের ভালো উৎস এবং প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে চা খেলে হৃদপিন্ডের স্বাস্থ্যঝুকি কমে যায়। কিন্তু প্রতিদিন একপেট খাওয়ার পরে চা খাওয়ার অভ্যাসটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। চায়ে আছে পলিফেনল যা সবুজ শাকসবজির আয়রনকে শরীরে গ্রহণ করতে বাধা দেয়। ফলে যাদের শরীরে আয়রনের অভাব আছে তাঁরা খাওয়ার পরে চা খেলে শরীর আয়রণ গ্রহণ করতে পারেনা এবং আয়রণের অভাব পূরণ হয় না। ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। তাই খাওয়ার কমপক্ষে একঘন্টা পরে খাওয়া উচিত।
৪. খাওয়ার সাথে সাথে হাঁটা: খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনেকে হনহন করে হাটা শুরু করেন। খাওয়ার ঠিক পরপরই জোরে হাটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এতে হজমপ্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খাওয়ার পরে জোরে না হাটলেও স্বাভাবিকভাবে ঘরের ভেতরের হাটাচলা করতে কোনো সমস্যা নেই। তবে খাওয়ার ৩০ মিনিট পরে কিছুটা সময় হাটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো বলে জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ক্যারোলিনা এর গবেষকরা।
৫. ফল খাওয়া: একথা প্রচলিত, খালি পেটে জল আর ভরা পেটে ফল। অনেকের মনে করেন, খাওয়ার পর পরই ফল খাওয়া ভাল। কিন্তু, খাওয়াদাওয়ার পর ফল খাওয়ার অভ্যেসও সঠিক নয়। এতে হজমের গণ্ডগোল হতে পারে। আবার লিভারে যদি কোন সমস্যা থাকে তাহলে কখনই খাওয়ার পর বিশেষ করে মিল বা ডিনারে ফল খাবেন না। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে।
৬. খাওয়ার পরই ঘুম: ভারি খাবার খাওয়ার পর কিছুটা ঝিমুনিভাব হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে খাওয়ার পরপরই ঘুমানো ঠিক নয়। কারণ এতে হজম প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। ঘুমানোর পর পুরো শরীরের কার্যপ্রক্রিয়ার গতি কমে যায়। তাই খাবার ঠিকভাবে হজম হয় না। আর খাবার ঠিকভাবে হজম না হলে নানান ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে। তাই খাওয়ার পরপরই না ঘুমিয়ে কিছুটা সময় অপেক্ষা করে তারপর শুতে যাওয়া উচিত।
৭. খাওয়ার পর স্নান: স্নানেের পরপর হাত এবং পায়ের রক্ত চলাচলের পরিমাণ বেড়ে যায়। অন্যদিকে পাকস্থলিতে রক্ত চলাচলের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কমে যায়। আর খাওয়ার পর পেটে পর্যাপ্ত পরিমাণ রক্ত চলাচল খুবই জরুরি। তা না হলে খাবার হজমে ব্যাঘাত ঘটে। তাই খাওয়ার ঠিক আগে বা পরে স্নান করা উচিত নয়।
৮. ধূমপান: যারা নিয়মিত সিগারেট পানে অভ্যস্ত তাদের ভরপেট খাওয়ার পর যেন একটি সিগারেট না হলেই নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, খাওয়ার পরপর একটি সিগারেট খাওয়া ১০টি বা তারও বেশি সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতিকর। অনেকেই মনে করেন ভারি খাবার খাওয়ার পর সিগারেট হজমে সাহায্য করে, তবে এই ধারণা একেবারেই ঠিক নয়। ধূমপান বরাবরই শরীরের জন্য ক্ষতিকর, খাওয়ার পরই যদি সিগারেট খাওয়া হয় তাহলে ক্ষতির পরিমান প্রায় ১০ গুণ বেড়ে যায়।

Post a Comment

0 Comments