লক ডাউন এর মধ্যে পড়ে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বৈদেশিক বাণিজ্য । যার প্রভাব পড়েছে বসিরহাটের বাগদা চিংড়ি চাষে। এলাকার মেছো ভেড়ির মালিকরা কুইন্টাল, কুইন্টাল চিংড়ি মাছ উৎপাদন করলেও বিদেশে রপ্তানি না হওয়ায় দাম পাচ্ছেন না চাষিরা ।সমস্যায় পড়েছেন এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার মানুষ ।
নদী মাতৃক বসিরহাট মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার বিঘা জমিতে নোনা জলের বাগদা চিংড়ি চাষ করেন এলাকার ব্যবসায়ীরা। নদী থেকে বাগদার মিন ধরা থেকে শুরু করে এলাকার মেছো ভেড়িতে চাষ করে উৎপাদিত বাগদা চিংড়ি আড়ৎদারের কাছে পৌঁছানো অবধি হাজার হাজার মানুষ এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত । মূলত এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থেকেই তারা তাদের সংসার যাত্রা নির্বাহ করেন । করোনার আবহে দীর্ঘদিন ধরে লকডাউন চলতে থাকায় বসিরহাটের মেছোভেড়ি থেকে উৎপাদিত বাগদা চীন জাপান আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে না । যার ফলে বড় বড় কোম্পানিগুলো আড়ৎদারদের কাছ থেকে চিংড়ি মাছ কিনছেন না। আর তাই স্থানীয় বাজার গুলোতে বাগদা চিংড়ি বিকোচ্ছে জলের দরে । গত বছর এমন সময়ে যে বাগদা চিংড়ির দাম ছিল হাজার টাকা প্রতি কেজি । এখন সেই বাগদা চিংড়ির স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে 400 থেকে 500 টাকা কেজি দরে। উৎপাদিত বাগদা চিংড়ির দাম না পাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন এলাকার মেছো ভেড়ির মালিক থেকে শুরু করে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সকল মানুষ।
আন্তর্জাতিক নার্সিং দিবসে করোনার যোদ্ধা নার্সদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপণে হলদিয়া দুর্গাচক থানার পুলিশ ।
করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত রোগীদের সুস্থ করে তোলার পেছনে চিকিৎসকদের পাশাপাশি পরিশ্রম রয়েছে নার্সদেরও। পরিবারের সঙ্গে একপ্রকার বিচ্ছেদ নিয়ে দিনরাত হাসপাতালেই করোনা রোগীদের সেবায় দিন কাটছে তাঁদের। আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষ্যে সেইসব নার্সদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন হলদিয়ার দুর্গাচক থানার পুলিশ কর্মীরা । মঙ্গলবার রাতে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালের সমস্ত নার্সদের প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। সবাইকে একটি করে গোলাপ ফুল এবং মিষ্টির প্যাকেট দিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন। দুর্গাচক থানার এসআই অশোক ঘোষ বলেন, সরকারি নির্দেশে আন্তর্জাতিক নার্সিং দিবস উপলক্ষে আমরা পুলিশকর্মীরা হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে নার্সদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করতে এসেছি।
রাতে বাড়ি ফেরার পথে দুষ্কৃতিদের হাতে খুন হলেন এলাকার সক্রিয় এক তৃণমূল কর্মী। মঙ্গলবার রাতে মুর্শিদাবাদে খড়গ্রাম থানার চন্দ্রসিংহবাটি গ্রামের ঘটনা। তৃনমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে এই খুন বলে অভিযোগ মৃতের পরিবারের লোকজনদের। জানা গিয়েছে ওই এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী বাক্কার সেখ এদিন রাতে বাড়ি ফেরার পথে আক্রান্ত হন দুষ্কৃতিদের হাতে। রাতের অন্ধকারে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুষ্কৃতিরা তাকে এলোপাথাড়ি কোপায় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমত নিয়ে যাওয়া হয় কান্দি মহকুমা হাসপাতালে। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে পথেই মৃত্যু হয় তার। ঘটনার জেরে লকডাউনের মাঝেই রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে ওই এলাকায়। রাজনৈতিক কারণে পুরোনো বিবাদের জেরে এই খুন বলে অভিযোগ মৃতের আত্মীয়পরিজনদের। ঘটনায় মৃতের পরিবারের তরফ থেকে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হলে তদন্ত শুরু করে খড়গ্রাম থানার পুলিশ। যদিও ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানায় মৃতের পরিবার সদস্যরা।
সোনামুখী ইউথ কর্নার ক্লাবের উদ্যোগে ও হসপিটাল কেয়ার সলিউশন এর সহযোগিতায় শুরু হল বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা ।
এমন অনেক মানুষ রয়েছেন যাদের আর্থিক খরচ করে নিজেদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না , ফলে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক সমস্যা থাকলেও তারা সেই সমস্ত সমস্যা গুলি সম্পর্কে জানতেই পারেন না । ফলে বিভিন্ন সময়ে বড় রোগের সম্মুখীন হতে হয় তাদের ।
আর সেই সমস্ত মানুষগুলোর কথা চিন্তা করে সামনের দিকে এগিয়ে এলো সোনামুখী ইউথ কর্নার ক্লাব । সোনামুখী ইউথ কর্নার ক্লাব উদ্যোগে এবং গ্লোকাল হাসপাতাল ( বর্তমান নাম হসপিটাল কেয়ার সলিউশন ) এর সহযোগিতায় হসপিটাল কেয়ার সলিউশন হাসপাতালে গতকাল থেকে শুরু হল বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা । ফলে উপকৃত হবেন সোনামুখী শহর ও সোনামুখী ব্লক এর বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ । এই স্বাস্থ্যপরিসেবা চলবে আগামী দশ দিন পর্যন্ত ।
বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার শুভ সূচনা করেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মাননীয় শ্যামল সাঁতরা বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শুভাশিস বটব্যাল । সোনামুখী ইউথ কর্নার ক্লাব সারাবছর বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকেন । বিশেষ করে বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে যথেষ্ট নজরদারি রাখা প্রয়োজন রয়েছে । আর সে কথা ভেবেই সোনামুখী ইউথ কর্নার ক্লাবের এই অভিনব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকল শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সাধারণ মানুষ ।
বড় বড় জেনারেটর যেসব সংস্থার রয়েছে তাদের আর পাম্পে নিয়ে এসে ডিজেল নিয়ে যেতে হবে না। এবার ডিজেল পৌঁছে যাবে সেইসব সংস্থার দরজার সামনে। ইতিমধ্যেই পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলে ডিজেল মোবাইল ভ্যান যাত্রা শুরু করল।
এই লকডাউনের সময়ে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডিজেল পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করবে এই ডিজেল মোবাইল ভ্যান। এরপর মোবাইলের টাওয়ার, ছোট-বড় কারখানা, বড় বড় হাউসিং কমপ্লেক্স সহ বিভিন্ন জায়গায় এই মোবাইল ডিজেল ভ্যান পৌঁছে যাবে ডিজেল নিয়ে। এর ফলে কোনো রকম কোনো এক্সট্রা পয়সা দিতে হবে না 17 কিলোমিটার পর্যন্ত। পাশাপাশি বিপদ মুক্ত হবে ওইসব সংস্থা। পেট্রোল পাম্পে ডিজেল বয়ে নিয়ে আসতে হবে না ফলে সাশ্রয় হবে ওই সংস্থার। ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় দৌড়ে বেড়াচ্ছে এই ডিজেল ভ্যান। বর্তমানে এই গাড়ি কেবলমাত্র সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের ডিজেল দেওয়ার কাজ করছে। তবে এরপর অন্যান্য সংস্থা ও ডিজেল চাইলেই তারা পেয়ে যাবে ডিজেল নিজের বাড়ির দরজায়। যদিও বা এখনো মোবাইল অ্যাপ শুরু হয়নি তাই টেলিফোনের মাধ্যমে ফোন করলেই হবে। পরবর্তী কালে মোবাইল অ্যাপ তৈরি করে শুরু হবে এই পরিষেবা। এই প্রসঙ্গে পেট্রোল পাম্পের মালিক সুবীর সাহা অনেক দিন আগেই পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক এই ডিজেল মোবাইলের চালুর পরিকল্পনা নিয়েছিল। তারপর শুরু এই মোবাইল ডিজেল ভ্যান পরিষেবা। এই মোবাইল ডিজেল ভ্যান পরিষেবা চালু হওয়ায় ব্যবসা ক্ষেত্রে আরো একধাপ এগুলো আসানসোল শিল্পাঞ্চল।
'লক ডাউন'। মাত্র হাতে গোনা এই তিন অক্ষরের শব্দবন্ধ দেড় মাসের মধ্যে ওলট পালট করে দিল অনেক কিছুই। এক সময়ের বিখ্যাত বাঁকুড়ার জগদ্বিখ্যাত পাগড়ি শিল্প আজ ধুঁকছে। সৌজন্যে সেই বহু চর্চিত ও এই মুহূর্তের বহু আলোচিত 'লক ডাউন'।
একদিকে কালী-কার্তিকের জন্য যেমন বিখ্যাত বাঁকুড়ার এই প্রাচীণ পৌর শহর। তেমনি এখানকার শ্যামবাজারের তাঁতিদের তৈরী পাগড়ির জন্যও সোনামুখীর নাম কাবুল, আফগানিস্তানীদের মুখে মুখে ফেরে। সুখের সেদিন আর নেই, একটা সময় ছিল যখন দলে দলে কাবুলীওয়ালারা এসে ভীড় করতো সোনামুখীতে। পাইকারিহারে এখানকার পাগড়ি কিনে পাড়ি জমাতো নিজেদের দেশে। গত কয়েক বছর ধরে সে ছবিটাও ফিকে হয়ে আসছিল। আর 'করোনা' এসে আরো, আরো বেশী ফিকে করে দিল। এক দিকে পাগড়ি তৈরীর কাঁচা মালের যোগান নেই, অন্যদিকে কাবুলিয়ালা বা অন্যান্য ক্রেতাদেরও দেখা নেই। ফলে চরম অস্তিস্ত রক্ষার সংকটে ভূগছে এক সময়ের বিখ্যাত এই পাগড়ি শিল্প। আর সংসারে টান পড়ছে পাগড়ি তৈরীর সঙ্গে যুক্ত একটা বড় অংশের শিল্পীদের।
করোনা যুদ্ধ জিতে বাড়ি ফিরলেন ৮৮ বছরের বৃদ্ধ। বাড়ি ফিরে তিনি জানালেন মানসিক জোড় থাকলেই করোনা যুদ্ধ জেতা যায়।
বারাকপুর পৌরসভার তিন নম্বর ওর্য়াড সুভাস কলোনির বাসিন্দা ৮৮ বছরের বরেন মুখার্জি হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য অ্যাপালো হসপিটালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ২২ শে এপ্রিল অ্যাপালো হসপিটাল থেকে ছাড়া পান। বরেন বাবুর হসপিটাল থেকে বাড়ি ফেরার খবর পেয়ে পৌরপ্রধান উত্তম দাস তাঁকে বি এন বোস মহকুমা হসপিটালে পাঠান পরীক্ষার জন্য। হসপিটালে চিকিৎসকদের সন্দেহ হওয়ায় তাকে পাঠানো হয় টেকনো গ্লোবাল কোভিড হসপিটালে। সেখানে রির্পোট পজেটিভ হওয়ায় তাকে পাঠানো হয় বারাসাত কোভিড হসপিটালে। সেখানে টানা একুশ দিন চিকিৎসা চলার পর তার পরপর দুটো রির্পোট নেগেটিভ আসায় হসপিটাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বুধবার তিনি বাড়ি ফিরলে এলাকার মানুষ শঙ্খধ্বনি পুষ্প বৃষ্টি ও হাত তালির মধ্যে দিয়ে তাকে বরণ করে নেন।
নদী থেকে বালি তোলার অনুমতি মিলতেই নিয়ম না মানার চিত্র ধরা পড়লো বর্ধমানের সদরঘাটে।শ'য়ে শ'য়ে ট্রাক হাজির হয়েছে দামোদর নদের সদরঘাট এলাকায়।
কলকাতা,হাওড়া, বারাসত সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বালি নেওয়ার জন্য ট্রাক এসেছে বালি নেওয়ার জন্য।অথচ সরকারি নির্দেশিকায় পরিস্কার বলা আছে কোবিড ১৯ র জন্য ভিন জেলার কোন ট্রাক আসবে না। শুধুমাত্র স্থানীয় এলাকায় বালি নিয়ে যাওয়া ও মজুত করার অনুমতি দেওয়া আছে সরকারি নির্দেশিকায়।অথচ সকাল থেকেই একের পর এক ট্রাক আসছে হাওড়া,কলকাতা,বারাসাত সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে। নিয়মের তো কোন বালাই নাই।মুখে মাস্ক নাই,স্যানিটাইজারও নাই।ট্রাকের মধ্যেই চলছে রান্নাবান্না ও খাওয়া দাওয়া।
এই বিষয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক শসী চৌধুরী বলেন তাঁর কাছেও এই খবর আছে।পুলিশ ও বিএফআরকে বলা হয়েছে গোটা বিষয়টি দেখার জন্য।নিয়ম ভাঙলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধূপগুড়ি বিদ্যুৎ বিভাগের কার্য্যালয়ে স্মারকলিপি দিতে গিয়ে গ্রেফতার তিন বিজেপি নেতা।বুধবার দুপুরে বিদ্যুৎ বিল মুকুবের দাবিতে এবং বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারন মানুষকে হয়ারানির অভিযোগ তুলে স্মারকলিপি দিতে আসে বিজেপি যুবমোর্চা।কিন্তু বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে আসতেই ধূপগুড়ি থানার পুলিশ আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করে।
বিজেপি যুব মোর্চার জেলা সহ সভাপতি রনো ঘোষ বলেন,বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারন মানুষকে হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়ে এবং আগামী তিনমাসের বিল মুকুবের দাবি নিয়ে স্মারক লিপি দিতে এসেছিলাম।কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে রাস্তায় আটকে দেওয়া হয়েছে।
শীত গ্রীষ্ম বর্ষা -বালিটিকুরী কালীতলায় রেখা দি -ই ভরসা ।কারন প্রাক্তন পুলিশ কর্ত্রী রেখা দাসের অদম্য ইচ্ছা আর সহযোগিতায় এই লকডাউনের সময়ে ও মুখে হাসি ফুটেছে গরীর মানুষের ।জানা গিয়েছে বালিটিকরী কালীতলা এলাকার বাসিন্দা রেখা দাস এখন সত্তর বছর বয়সী এক তরুনী।শিয়ালদহ জি আর পির ডি এস পি পদে থেকে 2011সালে চাকরী থেকে অবসর নেন ।এরপর নিজের অর্থে এলাকার আর্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চলেছেন আজো ।স্বামী ব্যবসায়ী ।দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে ।তাই অফুরন্ত অবসর কাটান গরীব ,আর্ত মানুষের সঙ্গে নিজের পেনশনের অর্থ ব্যয় করে ।
মুখ্যমন্ত্রীর উচিত অবিলম্বে হুগলির পুলিশ কমিশনার ও ভদ্রেশ্বর থানার ও সি কে অপসারিত করা হোক। এমনটাই দাবী তুললেন হূগলী লোকসভার সাংসদ লকেট চ্যাটাজ্জী।বুধবার হুগলী জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করতে আসেন লকেট চ্যাটাজ্জী ও সাংসদ অর্জুন সিং।জেলা শাসকের দেখা না পেয়ে জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে অবস্হানে বসে পড়েন দুই সাংসদ। লকেট চ্যাটাজ্জীর অভিযোগ ভদ্রেশ্বরের তেলিনীপাড়ায় হিংসার ঘটনা থামাতে ব্যার্থ পুলিশ প্রশাসন। তাই অবিলম্বে হুগলী পুলিশ কমিশনার ও ভদ্রেশ্বর থানার ও সিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক।
ভুট্টার আড়ালে রেশনের গম পাচার করার অভিযোগে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় পুলিশ দু'জনকে গ্রেফতার করল।
ভূট্টার আড়ালে রেশনের গম পাচার করার অভিযোগে গ্রেফতার দু'জন। জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ দু'জনকে গ্রেফতার করে। ধৃত ব্যবসায়ীর নাম হরেন ঘোষ ও গাড়ির চালক অমৃত রায়। মঙ্গলবার ধৃতদের আদালতে তোলা হয়েছে। পুলিশের দাবি প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে উদ্ধার হওয়া গম রেশনের।
আলিপুরদুয়ার দিক থেকে জাতীয় সড়ক দিয়ে শিলিগুড়ি উদ্দেশ্যে পিক আপ ভ্যানে ভুট্টা বোঝাই করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। মঙ্গলবার ভোর রাতে পুলিশ গাড়ি আটকে তল্লাশি শুরু করে। এরপরেই পুলিশের নজরে আসে সামনে ভুট্টার বস্তা পেছনে রয়েছে রেশন গম। পুলিশকে আড়াল করতে লকডাউনের মধ্যে গম পাচারের ছক করেছিলেন আলিপুরদুয়ার জেলার জটেশ্বরের এক ব্যবসায়ী অভিযোগ। গম ও ভুট্টা নিয়ে যাওয়ার কোন অনুমতি দেখাতে পারেননি ওই ব্যবসায়ী দাবি পুলিশের। ওই ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ৷ এরপরেই পুলিশ ব্যবসায়ী ও চালককে গ্রেফতার করে। আলিপুরদুয়ারের প্রশাসনের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের এক আধিকারিক বলেন," কি কারণে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল গমের বস্তা গুলি তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"
জলপাইগুড়ি সদর পশ্চিম লোকালের তরফ থেকে এলাকায় জীবাণুমুক্ত কাজ চলছে।
বিভিন্ন জায়গায় জীবাণুমুক্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ডি ওয়াই এফ আই এর জলপাইগুড়ি সদর পশ্চিম লোকালের তরফ থেকে। প্রথম দফায় জলপাইগুড়ি বিলপাড়া, শিরিষ তলা মোড় এরপর দ্বিতীয় দফায় ডেঙ্গুয়াঝাড় মোড় ও হাট জীবাণুমুক্ত করে বুধবার শহর লাগোয়া ৭৩ মোড় ও সংলগ্ন এলাকা জীবাণুমুক্ত করা হয়। জলের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে এলাকায় স্প্রে করা হয় বলে জানায় উদ্যোক্তারা। করোনা সংক্রমণ রুখতে লাগাতার এই কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। সম্পাদক সুরোজ দাশ জানিয়েছেন এদিনের এর কর্মসূচি উপস্থিত ছিলেন অজিত ভৌমিক ,দুলাল রায়, অনিমেষ রায় ,মধুসুধন ঘোষ ,শুভম ঠাকুর প্রমুখ।
পেটের টানে বাড়ি বাড়ি নাম- গান করেই চলছে সংসার।
করোনা! বর্তমান গোটা বিশ্বের কাছে এই করোনা এখন হয়ে উঠেছে আতঙ্কের নাম। যার ফলে এখন ঘর বন্দী হয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ। তিন অক্ষরের এই আতঙ্কের প্রভাবে রোজগারপাতিও উঠেছে লাটে। কিন্তু পেট চলবে কিভাবে? আর এই চিন্তাতেই মরিয়া এখন গোটা দেশের মানুষ। তাই এমন পরিস্থিতিতে নাম গান করে সংসার চালাচ্ছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমারের ছবিলাল অধিকারী ও ছোট্ট বর্ষারাণী অধিকারী। সকাল থেকে শহরের এবাড়ি থেকে ওবাড়ি নামগান করে যেটুকু অর্থ উপার্জন হচ্ছে তা দিয়েই এখন কোনরকম চলছে সংসার।
পেশায় কীর্তনশিল্পী। বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমারের মহম্মদপুর গ্রামে। সারা বছর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কীর্তন গান পরিবেশন করে কোনরকম চলে যেত সংসার। দুবেলা দুমুঠো চাল টগবগিয়ে ফুটত হাঁড়ির মধ্যে। সুখ- দুঃখের সংসারে ভাবতে হতোনা খাবে কি তা নিয়ে। কিন্তু তিন অক্ষরের এই অদৃশ্য ভাইরাস কোথাও যেন স্বাভাবিক এই ছন্দের ছন্দপতন ঘটিয়েছে। বর্তমানে সমস্ত অনুষ্ঠান বন্ধ। কীর্তনের জন্য যে সমস্ত বুকিং হয়েছিল তাও এই করোনার গ্রাসে বাতিল হয়ে গিয়েছে। তাই এমন পরিস্থিতিতে বাড়ি বাড়ি নামগান করেই কোনরকম সংসার চালাচ্ছেন নন্দকুমারের ছবিলাল। রোজ সকালে কাঁধে হারমোনিয়াম ঝুলিয়ে হলদিয়া শহরের, মহিলাদলের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত বাড়ি বাড়ি নামগান করে চলেছেন তিনি। তার সাথে সঙ্গ দিয়েছে তারই ভাইঝি বর্ষারাণী। বর্ষারাণীও কীর্তনে দেদার পটু। বয়স মাত্র ১৩। কিন্তু তার গলার কীর্তনের সুর মুগ্ধ করে চলেছে সকলকে। ভালোবেসে বর্ষারাণী কীর্তন করলেও সে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। তাই বর্তমানে স্কুল ছুটির সময়ে কাকুর সাথে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চর্চা করছে সে। বয়সে ছোট হলেও তার কীর্তনের মধুর সুর মুগ্ধ করে চলেছে সকলকে। ভালোবেসে কেউ দিচ্ছে টাকা, আবার কেউ খাবার- দাবার। আর এই দিয়েই কোনোরকম চলে যাচ্ছে তাদের সংসার। ছবিলাল ও ছোট্ট বর্ষারাণী বলেন, "কীর্তন ভালোবাসি। তাই বর্তমানে পেট চালানোর জন্য কীর্তনকেই অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছি"।
কলকাতা এবং শহরতলিতে সরকারি বাস বাড়ানো হলো। রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের একটি বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায় হাওড়া গড়িয়া , হাওড়া কামালগাজি, হাওড়া ঠাকুরপুকুর, হাওড়া নিউ টাউন সহ কলকাতার মোট ১৩ টা রুটে সরকারি বাস চলছে । হাওড়া স্টেশন লাগোয়া হাওড়া বাস স্ট্যান্ড সকাল থেকেই যাত্রীরা বাসে চেপে গন্তব্যস্থলে পৌঁছান। বাসের চালকরা জানিয়েছেন প্রতি বাসে মোট কুড়ি জন করে যাত্রীকে বসার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে । একমাত্র জরুরী পরিষেবা সঙ্গে যুক্ত যাত্রীদের বাসে বসার অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অনেকক্ষেত্রে কন্ডাক্টর যাত্রীদের পরিচয় পত্র পরীক্ষা করে বাসে চড়ার অনুমতি দিচ্ছে। তবে যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী বাসের সংখ্যা অনেক কম। বাসের সংখ্যা না বাড়লে যাত্রী চাপ বাড়তে পারে। তবে সরকারি বাস পেয়ে যাত্রীরা খুশি।
ঠিক মতো পিপিই কিট, হ্যান্ড গ্যাল্সাব ও মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে না এই অভিযোগ তুলে আসানসোল জেলা হাসপাতালের সুপারকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করল একদল স্বাস্থ্য কর্মীরা। তাদের অভিযোগ করোনা মোকাবিলায় তারা অনবরত ডিউটি করেছেন। তাঁরা হাসপাতালে পাশাপাশি বাংলা ঝাড়খণ্ডে সীমান্তে মেডিকেল ক্যাম্পে ডিউটি করছেন। কিন্তু তারা নিজেরা ঠিক মতো পরিষেবা পাচ্ছেন না। এমনকি মাস্ক, পিপিই কিট ও হ্যান্ড গ্যাল্সাব ও নিম্ন মানের বলে অভিযোগ। তাদের দাবি অবিলম্বে সঠিক পরিষেবা দিতে হবে। এই মর্মে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে হাসপাতালের সুপার নিখিল চন্দ্র দাস জানিয়েছেন ওনাদের দাবি বিষয়টি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানানো হবে।
ব্যাগ ঘিরে করোনা আতঙ্ক।আজ সন্ধ্যে নাগাদ রামপুরহাট বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় কে বা কারা একটি ব্যাগ ফেলে যায়।এই নিয়ে শুরু হয় করোনার আতঙ্ক ঘটনা স্থলে রামপুরহাট থানার পুলিশ আসে থানা থেকে স্বর্গ ভ্যান আনিয়ে বাঁশে করে ধরে গাড়ীতে চাপিয়ে নিয়ে যায়।
দেশ জুড়ে চলছে লক ডাউন। গণপরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ।গোটা দেশে সংকটজনক পরিস্থিতি। ভিন রাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকরা আটকে পড়েছেন।গত দেড় মাস ধরে তাঁরা অনেক চেষ্টা করেও বাড়ি ফিরতে পারেন নি। শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার কোনো সুযোগ ছিল না এতদিন। তাঁরা যখন এখন সুযোগ পেয়েছেন তখন নেই কোনো যানবাহন।
তাই তাঁরা পায়ে হেঁটে মাইলের পর মাইল পেরিয়ে, বৈশাখের দাবদাহ, ঝড় বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে এগিয়ে চলেছেন।এগিয়ে চলেছেন দূর-দূরান্তে, তাঁদের গন্তব্যে। তাঁরা চলেছে বাড়ির ঠিকানায়।
পরিযায়ী শ্রমিকদের একাংশ চলেছেন দামোদর নদের বাঁধ ধরে,পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে করে। তাঁরা কেউ যাচ্ছেন বিহার, কেউ ঝাড়খণ্ড, কেউ যাচ্ছেন মুর্শিদাবাদ, আবার কেউ ছত্রিশগড়। লাল সুড়কির উপর দিয়ে কেউ যাচ্ছেন খালি পায়ে হেঁটে, পরনের পোশাক জীর্ণ, চোখে মুখে গভীর ক্লান্তির ছাপ। কবে শেষ ভাত খেয়েছেন ভুলে গেছেন নিজেরাই। শ্রান্ত শরীর, -তাতে কি, লক্ষ্য একটাই বাড়ি ফিরতে হবে।
এই পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের মেমারির একদল মানুষ।মেমারির দলুইবাজার এলাকার পশ্চিমপাল্লার মানুষজন, নিজেদের সামর্থ্য ও সঞ্চয় নিয়ে পথে নেমেছেন।
দামোদর নদের পাড়ে পশ্চিমপাল্লায় ব্যবস্থা করা হয়েছে অভুক্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের খাওয়ানোর। দু'দণ্ড থামছেন তাঁরা এখানে, বিশ্রাম নিচ্ছেন, স্নান সারছেন এবং তারপর খাচ্ছেন।
তারপর আবার শুরু করছেন পথচলা। নিজ নিজ গন্তব্যের দিকে।
পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা পরিযায়ী শ্রমিকদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছেন গ্ৰাম থেকে অনেকটা দূরে। নদীর ধারে কাঁঠাল বাগানে,সেখানে বিশ্রামের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।প্রতিদিন তাঁরা খাওয়াচ্ছেন।এখনো পর্যন্ত মোট ১১০০ পরিযায়ী শ্রমিকের কাছে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন পশ্চিমপাল্লার বাসিন্দারা। স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে।খাবার আগে স্যানিটাইজারও দেওয়া হচ্ছে প্রত্যেককে। স্নানের জন্য রাখা হয়েছে সাবান। কেউ যদি খাবার সঙ্গে নিয়ে যেতে চান, তারজন্যও রাখা হয়েছে প্যাকিংয়ের ব্যবস্থা।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের বিহার পৌঁছাতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ এমনকি নির্যাতনের শিকার হলেন এস বি এস টি সি র বাসের শ্রমিকেরা। দুটি বাসের হদিশ মিলছিলো না। তাদের ক্লান্ত শরীর অভুক্ত অবস্থায় উত্তর প্রদেশে যাত্রী পৌঁছে দিতে হয়েছে।অবশেষে আজ বিধ্বস্ত অবস্থায় বর্ধমানে ফিরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা।ঘটনার বিবরণে প্রকাশ বর্ধমান থেকে আটটি এস বি এস টি সি বাস কে সরকারি উদ্যোগে বিহারের জামুইতে পাঠানো হয়। বিহারের বিভিন্ন এলাকার পরিযায় শ্রমিক সহ অন্যদের ওই বাসগুলি করে ফেরত পাঠানোর কথা ছিল। ড্রাইভারদের অভিযোগ ; তারা সরকারি নির্দেশ মত একাজ করছিলেন। সবরকম সরকারি অনুমোদনের নথিপত্র তাদের সঙ্গে ছিল।এরপরই শুরু হয় আসল দুর্ভোগ।
বিহারের জামুইতে একটি স্কুলের মাঠে সব যাত্রীদের পৌঁছে দেন তারা।অভিযোগ স্থানীয় প্রশাসনের তরফে তাদের সঙ্গে চরম দুর্বব্যবহার করা হয়। তাদের খেতে দেওয়া হয়নি। আটটির মধ্যে দুটি বাসে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের যাত্রীরা।তাদের ওখানেই নামিয়ে দেবার কথা। বাকি পথ বিহার প্রশাসনের দায়িত্ব নেবার কথা ছিল। ড্রাইভারদের ও বাসকর্মীদের বাধ্য করা তাদের নিয়ে উত্তরপ্রদেশ যেতে। তারা রাজি না হতে চাইলে এস ডি ও র নির্দেশে যাত্রীরা তাদের মারধোর করে বলে অভিযোগ। অভুক্ত ক্লান্ত অবস্থায় অচেনা রাস্তায় বাস নিয়ে তারা যেতে বাধ্য হন।তাদের এমনকি উত্তরপ্রদেশ যাবার কোনো নথিও তাদের দেওয়া হয়নি। মাঝে বেশ কয়েকঘন্টা দুটি বাস বেপাত্তা হয়ে যায়। উদ্বিগ্ন সহকর্মীরা ইউনিয়নের নেতাদের বিষয়টি জানান। অবশেষে এস বি এস টি সি র এম ডির উদ্যোগে দুর্গাপুরের পশ্চিম বর্ধমানের জেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। অনেক কষ্টে শ্রমিকদের সাথে যোগাযোগ করা হয়। সবাইকে নামিয়ে আজ কার্যত অসুস্থ অবস্থায় বর্ধমানে বাস নিয়ে আসেন শ্রমিকেরা। তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।সরকারি নির্দেশে ঝুঁকি নিয়ে মানবিক আর পেশাগত দায় পালন করতে গিয়ে এরকম নাজেহাল হতে হবে; ভাবেননি তারা।

0 Comments