সোমবার থেকেই রাজ্যের সব ধর্মস্থান খুলেছে
আগামী ৩১ মে শেষ হচ্ছে চতুর্থ দফার লকডাউন। আর ১ জুন সোমবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গের মন্দির, মসজিদ, গির্জা, গুরুদ্বার সহ সব ধর্মস্থান খুলে যাচ্ছে। শুক্রবার নবান্নে সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘোষনা দেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জি। তবে ধর্মস্থান খোলা হলেও করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে দেশজুড়ে লকডাউন জারি রয়েছে সেই সমস্ত বিধি পালনের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। সেক্ষেত্রে কোন ধর্মস্থানেই একসাথে ১০ জনের বেশি প্রবেশ করা যাবে না বা জমায়েত করা যাবে না। কোথাও কোন অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা যাবে না। বিভিন্ন রাজ্যে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনাা ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে মমতা বলেন ‘আইন তো সকলের জন্যই এক। এটা তো মানুষ ভেদে পৃথক হতে পারে না। বাইরের রাজ্য থেকে আমার ভাই-বোনেরা আসছে তাতে আমি খুশি। কিন্তু একটা ট্রেনে যখন শ্রমিক ভাই-বোনেরা আসছে তখন একটা আসনে কেন তিন-চার জন মিলে গাদাগাদি করে বসছে? মহারাষ্ট্র, চেন্নাই, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লির মতো হটস্পট জায়গা থেকে মানুষ আসছে...তবে করোনা কেন বাড়বে না? যার করোনা নেই তাকেও করোনায় সংক্রমিত করে দেওয়া হচ্ছে। তবে মন্দির, মসজিদ, গির্জা, গুরদ্বারা কি দোষ করল? আইন কেন সকলের ক্ষেত্রে এক হবে না? আপনারা যদি এটা করেন তবে, আমি কেন মন্দির-মসজিদ বন্ধ রাখবো? আমি আর্জি জানাবো যেন ১ জুন সকাল ১০ টা থেকে থেকে মন্দির-মসজিদ-গির্জা-গুরদ্বারা সহ সব ধর্মস্থান খুলে যায়। মানুষ নিজের মন সন্তুষ্ট করার জন্য এখানে এসে ঘুরে যাবেন। কিন্তু একবারে ১০ জনের বেশি প্রবেশ করা যাবে না। ভিতরে কোন বড় উৎসব হবে না। শুধুমাত্র দর্শন করা যাবে। দেখবে, নমস্কার করবে, সালাম করবে চলে আসবে। তবে লকডাউনের নিয়ম মেনে এই সব ধর্মস্থানে কোন জমায়েত হবে না।’ তবে ধর্মস্থানগুলিতে সামাজিক বিধি মানা হচ্ছে কি না তা দেখতে সংশ্লিষ্ট মন্দির বা মসজিদ কর্তৃপক্ষকেই দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। লকডাউনের বিধি অমান্য করা হলে তৎক্ষনাত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইসাথে ধর্মস্থানে আসা ব্যক্তিদের মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক। তেমনি মন্দির কর্তৃপক্ষকেই স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’ মুখ্যমন্ত্রীর অভিমত ‘আমাদের দেবদবীর পুজো হোক। দেশের যা দুরাবস্থ তাতে সকলে মিলে দোয়া করি।’ মমতার অভিযোগ ‘কেন্দ্র লকডাউন ঘোষনা করে দিল অথচ তারাই এটা মানছে না।’ তার প্রশ্ন ‘কেন্দ্র সরকার কেন এটা মানছে না? তারা কি শ্রমিক এক্সপ্রেসের নামে করোনা এক্সপ্রেস করতে চায়?’ আগামী ১ জুন থেকে চা ও জুট শিল্পগুলিও ১০০ শতাংশ খুলে যাবে বলে এদিন ঘোষনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয় আগামী ৮ জুন থেকে শতকরা ১০০ ভাগ লোকবল নিয়ে সমস্ত সরকারি-বেসরকারি অফিসও খুলে যাবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। যদিও আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত স্কুল বন্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি।
0 Comments