এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনকে কলকাতার একটি শেল কোম্পানি থেকে অর্থ পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলাও করেছে। ইডির হেফাজতে সত্যেন্দ্র জৈনকে নথি এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট দেখিয়ে ক্রমাগত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যদিও আম আদমি পার্টি তাকে নির্দোষ বলে দাবী করে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, এই ক্ষেত্রে, এই শেল সংস্থাগুলির মালিক জীবেশ মিশ্র তদন্তকারী সংস্থার কাছে স্বীকার করেছেন যে তিনি নগদ টাকা সত্যেন্দ্র জৈন এবং তাঁর সহযোগীদের পাঠিয়েছিলেন। সত্যেন্দ্র জৈনের গ্রেপ্তারের বিষয়ে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি আজ আম আদমি পার্টিকে প্রশ্ন তুলেছেন যে তাঁরা কেন সত্যেন্দ্র জৈনকে বাঁচাতে চাইছে?
অন্যদিকে, আপ এই বিষয়টিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করছে। ৪৮ ঘন্টা কেটে যাওয়ার পরও সত্যেন্দ্র জৈনকে মন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেয়নি আপ। সূত্রের মতে, জৈন এবং তার সহযোগীদের কোম্পানিতে কীভাবে অর্থ এসেছে তা তদন্ত করার জন্য সিবিআই দল তাদের কাগজপত্রও প্রস্তুত করেছে।
ইডি তদন্ত অনুসারে, সেল কোম্পানির অপারেটর জীবেশ মিশ্রের ১৭টি কোম্পানি থেকে ইন্দো মেটাল ইমপেক্স প্রাইভেট লিমিটেডে বছরে ৬ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা এসেছে। ২০১২-১৩ সালের মার্চ মাসে কাঞ্চন ডেভেলপারস প্রাইভেট লিমিটেডে ২ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা এসেছিল, এই টাকা এসেছে জীবেশ মিশ্রের ছয়টি কোম্পানি থেকে। যদিও সূত্রের খবর, সত্যেন্দ্র জৈন এখনও অস্বীকার করছেন এই বিষয় সম্পর্কে।
সিবিআই সত্যেন্দ্র জৈনের বিরুদ্ধে আদালতের সামনে বেআইনি সম্পদের মামলায় একটি চার্জশিট দাখিল করেছে, এ নিয়ে আদালতে ধারাবাহিক শুনানি চলছে। অন্যদিকে, মানি লন্ডারিং আইনের অধীনে তদন্তকারী ইডিও তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট পেশ করবে। এমতাবস্থায় কে সত্য আর কে মিথ্যা তা ঠিক করবে আদালত।

0 Comments