নিজস্ব প্রতিবেদন: একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বাংলার মসনদে বসেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজের তৃতীয় বারের জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি। ৩৪ বছরের বাম শাসনের পতন ঘটিয়ে প্রথমবার ২০১১ সালে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকেই নিজের কাজ দিয়ে বাংলার মানুষের মন জয় করেছেন মমতা, যার ফলস্বরূপ রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসেন তিনি। শুধু তাই নয়, বাংলার প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছেন মমতা। ৫ই মে তৃতীয়বারের জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২৭ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল মোট আট দফায়। এই সময় মোট ২৯৪ টি আসনের মধ্যে ভোট গ্ৰহন হয় ২৯২ আসনে। কারণ দুই কেন্দ্রে প্রার্থীর আকস্মিক মৃত্যুর কারণে ভোট গ্ৰহণ স্থগিত হয়। পরবর্তীতে ৩০ সেপ্টেম্বর ওই দুই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয় এবং ফল ঘোষণা হয় ৩ অক্টোবর। সেখানেও জয়ী হয় তৃণমূল। তার আগে মোট ২১৩ টি আসনে জয়ী হয় তৃণমূল।


তবে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে জয় লাভ করতে অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় মমতাকে। তিনি নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর ছেড়ে নন্দীগ্ৰাম থেকে দাঁড়ান। সেখানে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে জোরদার টক্কর হয় এবং শেষ পর্যন্ত ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দুর কাছে হেরেও যান তিনি। যদিও নন্দীগ্রামে গনণায় কারচুপির অভিযোগ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মমতা ও শাসক দল। সেই কেস এখনও বিচারাধীন। 


একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরলেও মমতার মুখ্যমন্ত্রীর আসন তখনও টলমল। কারণ সাংবিধানিক নিয়মানুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর আসন ধরে রাখতে হলে মমতাকে যে কোনও বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ছয় মাসের মধ্যে জয়ী হয়ে আসতে হবে। কিন্তু কোথায় দাঁড়াবেন তিনি। অবশেষে আত্মত্যাগ করলেন ভবানীপুরের জয়ী প্রার্থী তথা বর্তমান কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ভবানীপুরে নিজের জেতা আসন মমতার জন্য ছেড়ে দেন তিনি। আর সেই আসনে নভেম্বর উপনির্বাচনে প্রার্থী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলাবাহুল্য, সেখানেই আসে জয় এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের আসন ধরে রাখতে সক্ষম হন মমতা। উল্লেখ্য, ৩০ শে সেপ্টেম্বর ভবানীপুর উপনির্বাচন হয় এবং ৩ অক্টোবর ফল ঘোষণা হয়।