পূর্ব মেদিনীপুর থেকে নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন তমলুকের বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র ও রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি।  এই দুই তৃণমূল নেতা বরাবরই জেলায় অধিকারীদের বিরোধী মুখ হিসেবে পরিচিত । ফলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় একপ্রকার  দলের মধ্যে ও বাহিরে অধিকারীদের শিক্ষা দিতে মন্ত্রিসভায় শুভেন্দুর জেলা থেকে এই দুই মুখ আনা হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্তের জেরে তৃনমূলের কর্মী মহলে বিশেষ করে পুরানো তৃনমূলীদের মধ্যে উদ্দীপনা তুঙ্গে।


২০১১সালে তমলুক বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এবং ২০১৬ সালে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থেকে জয় লাভ করে রাজ্য মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন সৌমেন মহাপাত্র। তবে এই প্রথম মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলেন রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি। শুভেন্দু অধিকারী,শিশির অধিকারীরা বিজেপিতে নাম লেখানোর পর থেকে এই দুই তৃণমূল নেতাকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলাকে প্রথম সারি থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছিল। এমনকি যখন শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলে ছিলেন তখনো অধিকারীদের বিরোধী ছিলেন অখিল ও সৌমেন। জেলায় দীর্ঘদিন অধিকারীদের দাপটে একপ্রকার কোণঠাসা হয়ে ছিলেন অখিল গোষ্ঠীর তৃণমূল নেতারা। 


তবে সাম্প্রতিক ডিসেম্বর মাসে শুভেন্দু দলবদল করার পর মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে অখিল গোষ্ঠীর তৃণমূল নেতারা। এদিকে সৌমেন মহাপাত্র রাজ্যের দু- দুইবারের মন্ত্রী হলেও তিনিও জেলা তৃণমূলের রাজনীতিতে শুভেন্দুর বিরোধী মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আর সেই শুভেন্দু বিরোধী মুখরাই এখন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তৃণমূলে বিশেষ প্রভাব পেয়েছে। শুভেন্দু বিজেপিতে যোগদান করার পর দীঘা- শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারীকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরিকে। অন্যদিকে শিশিরের তৃণমূল জেলা সভাপতির পদে শিশিরকে সরিয়ে বসানো হয়েছিল সৌমেন মহাপাত্রকে।


 মূলত অধিকারী শিবিরের বিরোধীদের মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে শুভেন্দুর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলকে চাঙ্গা করতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল। যদিও শুভেন্দু বিজেপিতে যোগদান করার পর জেলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের স্রোত কিছুটা হলেও বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। জেলার ষোলটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র নটি বিধানসভা দখল করতে পেরেছে তৃণমূল। তবে বিশেষ উল্লেখযোগ্য ভাবে একেবারে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে শুভেন্দু মমতাকে পরাজিত করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন পুরসভার ভোটে যাতে তৃণমূল চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে সেইজন্য পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় শুভেন্দু বিরোধী এই দুই মুখকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এক তৃণমূল নেতা ছবিলাল মাইতি বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় আমরা বিজেপি শূন্য করবো। যেখানে মানুষ আমাদের দুই হাত তুলে আশীর্বাদ করবেন। আমাদের জেলা থেকে দুইজন মন্ত্রী হওয়ায় আমরা খুবই খুশি।"


সোমবার সকালে কলকাতার রাজভবনে মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি ও তমলুকের বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র। তারা এদিন মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। রাজ্য মন্ত্রিসভার দুই সদস্য সৌমেন মহাপাত্র ও অখিল গিরি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী আমাদের যে দায়িত্ব দেবেন তা আমরা মাথা পেতে নেব। সাধারণমানুষের চাহিদামত আমরা পূরণ করার চেষ্টা চালিয়ে যাবো।"