করোনা মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ তথা বারুইপুর পশ্চিমের বিধায়ক বিমান বন্দোপাধ্যায়। হাসপাতালের উপযুক্ত পরিষেবার পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনকে মাস্ক বিতরনের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি নিয়ম মেনে দোকান বন্ধে ও মাস্ক পড়া বাধ্যতামুলুক করতে কড়া হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। বুধবার ১২ টার পর দুইঘন্টা ব্যাপি বারুইপুরের জেলা পরিষদ প্রশিক্ষন কেন্দ্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছিলেন দক্ষিন ২৪ পরগনা জেলা শাসক পি উলগানাথন,রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সোমনাথ মুখোপাধ্যায়, বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সরদার, বারুইপুর পুলিশ জেলা সুপার বৈভব তিওয়ারি সহ পুরসভার প্রশাসকরা, হাসপাতালের সুপার,অতিরিক্ত সুপার, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, সহ সভাপতি, জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার,মহকুমাশাসক,এস ডিপিও, আই সি সহ অন্যরা।
এদিন বৈঠকে অধ্যক্ষ বিমান বন্দোপাধ্যায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়রদের ১৫ দিনের মধ্যে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে এইচ ডি ইউ ইউনিট চালুর পাশাপাশি অক্সিজেন পাইপ লাইন চালু করার নির্দেশ দেন। বিমানবাবু জানতে চান কেন এত দেরি হচ্ছে। পাশাপাশি রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা কোভিড ওয়ার্ডে কতজন চিকিৎসক ও নার্স পরিষেবা দিচ্ছেন তা জেনে বিরক্ত বোধ করেন। নার্স সংখ্যা যাতে বাড়ানো হয় তা হাসপাতালের আধিকারিকদের দেখতে বলেন। ভ্যাক্সিন নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষ জয়ন্ত ভদ্র চম্পাহাটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভ্যাক্সিন দেওয়া হচ্ছে না কেন এই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এছাড়া বারুইপুর পুরসভার প্রশাসকরাও ২৩৫৩ ভ্যাক্সিন দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ জানান আধিকারিকদের কাছে।
রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা বলেন রাজ্যে ৮৮ লক্ষ মানুষ প্রথম ডোজ পেয়েছে, ২০ লক্ষ দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া গিয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ভ্যাক্সিন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গ্রামে ও শহরে বয়স্কদের জরুরী ভিত্তিতে ভ্যকাসিন দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য অধিকর্তা বলেন, সেফ হোমের সঙ্গে হাসপাতালের যোগাযোগ বাড়াতে হবে। সেফ হোমের বেড ৬০ থেকে ১০০ করতে হবে। আরও কয়েকশো টিকা দেওয়া হবে বারুইপুর পুরসভায়। এছাড়া করোনা আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে আনলে সঙ্গে সঙ্গে রেফার করে দেওয়া হচ্ছে কেন তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, বারুইপুরের রোগীকে বজবজে যেতে হচ্ছে বেড না পেয়ে। এই ব্যাপারে দরকার হলে বাঙ্গুরের পাশাপাশি কেপিসি, ই এস আই হাসপাতালের সঙ্গে কথা বলতে হবে জেলা প্রশাসনের।
বেডের পরিস্থিতি জেনেই তবে হাসপাতাল থেকে রোগী পাঠানো হোক। এদিন অধ্যক্ষ চিকিৎসকদের সংবেদনশিল হওয়ার বার্তা দেন। রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা,জেলাশাসক বলেন রোগীকে হাসপাতালে আনা হলে অক্সিজেন দেওয়ার পাশাপাশি তার চিকিৎসা করতে হবে। অ্যাম্বুলেন্স ও শববাহি গাড়ির অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে অনেকেই অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানান। পাশাপাশি অটো বেলাগম ভাড়া ও যানজট নিয়ে সরব হন অধ্যক্ষ। তিনি মহকুমাশাসককে নির্দেশ দেন অবিলম্বে ইউনিয়নের সঙ্গে কথা বলে এই ভাড়া কমানোর কথা বলতে হবে।
বারুইপুরে বাজার খোলা নিয়ে অধ্যক্ষ সরকারি নিয়ম সকাল ৭টা থেকে ১০টা ও বিকাল ৫ টা থেকে ৭ টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার নিয়ম মানার জন্য প্রশাসনের আধিকারিকদের নির্দেশ দিতে বলেন। বাজার সঠিক সময়ে বন্ধের জন্য পুলিশকে কড়া ভুমিকা নিতে বলা হয়েছে। কীর্তনখোলা শ্মশান মঙ্গলবার থেকে মেরামতের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যা নিয়ে বৈঠকে জানান পুরপ্রশাসকরা। এদিন জেলাশাসক বলেন,বারুইপুরে কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেফ হোমবাড়ানোর জন্য কথা হয়েছে। আক্রান্তরা যাতে ভর্তি হতে পারে তার জন্য বলা হয়েছে। শ্মশান বন্ধে আমাদের নজর আছে। মেরামত চলছে। দেহ সরানোর কাজ চলছে। জেলাতে অক্সিজেনের ঘাটতি নেই।

0 Comments