গায়ের রং কালো। সেই নিয়ে প্রতি মুহূর্তেই শ্বশুরবাড়িতে শুনতে হত গঞ্জনা। তার ওপর বাপের বাড়ি থেকে জিনিস আনার জন্যও চাপ দেওয়া হত বধুকে।
অভিযোগ এই জোড়া কারণেই তার ওপর চলত শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। অবশেষে সেই বধূকে খুন করা হয়েছে। তার মৃতদেহ উদ্ধার হল শ্বশুরবাড়ি ঘরের বিছানা থেকে। বাপের বাড়ির পরিবারের অভিযোগ, পিটিয়ে মারা হয়েছে বধূকে।
যদিও পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ থানায় জমা দেওয়া হয়নি। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। মৃতদেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে। কুলতলীর গোপালগঞ্জের ঘটনা। মৃত বধূর নাম তুহিনা মোল্লা। বয়স 21 বছর। তার বাপের বাড়ি কুলতলীর কুন্দখালি গ্রামে। দু'বছর আগে সাগির হোসেন মোল্লার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। একটি ৯ মাসের শিশু সন্তান রয়েছে তাদের।
সাগির কেরালাতে কাজ করতেন। লকডাউনের সময় বাড়ি ফিরে আসে। তুহিনার বাবা রাজ্জাক মোল্লার অভিযোগ, শনিবার দিন তুহিনার মায়ের শরীর খারাপ ছিল।তাই মেয়ের দেখতে আসার কথা ছিল। কিন্তু আসে নি। রাতে খবর পাওয়া যায় তুহিনা মৃত। তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দেখা যায় খাটের উপর দেহ পড়ে। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই গায়ের রং কালো হওয়ার জন্য তুহিনাকে গঞ্জনা দেওয়া হত।
এছাড়াও বাপের বাড়ি থেকে জিনিস আনার জন্য চাপ দেয়া হত।তিন ননদ ও শ্বশুর শাশুড়ি মিলে অত্যাচার করত। স্বামী সাগির তাদের কিছু বলত না। তাঁদের অনুমান তুহিনাকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। তারপর তাদের খবর দেওয়া হয়েছে। কুলতলি থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ জানায় কারুর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ থানায় দেওয়া হয়নি। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা অজু করে পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।

0 Comments